পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যোজনা

২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন যোজনা

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যোজনা

২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন যোজনা

Uncategorized

অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে গুজব ।গুজবে কান দেবেন না কারা আবেদন করতে পারবেন কি কি ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন জেনে নিন।।

আপনাদের সকলকে এই ওয়েবসাইটটিতে স্বাগত জানাই ।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে একলা জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ শুরু হবে এবং ৯০ দিন পর্যন্ত ফর্ম ফিলাপ চলবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের টাকা প্রদান করা হবে। কথামতোই বুধবার অর্থাৎ ৩রা জুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা প্রদান করা হয়েছে সরকারি তরফ থেকে প্রথম যতজন মহিলা আবেদন করেছিলেন তাদের ।এই আবেদন প্রক্রিয়া ৯০ দিন ধরে চলবে এবং তার সাথে সাথেই ধাপে ধাপে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা প্রদান করা হয়ে থাকবে। তাই দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই গুজবে কান দেবার কোন দরকার নেই। যোগ্য প্রাপক অবশ্যই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে সমস্ত মানুষ অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করতে যেতে পারবেন না শারীরিক অসুস্থতা কিংবা অন্য কোন কারণবশত তাদের জন্য সরকারি কর্মচারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করবে। তাই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের এই ১৩ পাতার ফর্ম দেখে দুশ্চিন্তা করবেন না গুজবে ও কান দেবেন না সরকারি প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করে আসবেন কারণ সরকার চান যোগ্য প্রাপক অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পাক কোন অভারতীয় মানুষ কিংবা কোন সুবিধাভোগী মানুষ বা পুরুষ মানুষ এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা না পাক।

তিনি শুধু এটাই বলেনি তিনি আরো বলেছেন যে যতদিন না পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা দেয়া হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আগে যেইভাবে লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন সেই অনুযায়ী টাকা পাবেন ।যে সমস্ত মা-বোনেরা লক্ষী ভান্ডারে ১৫০০টাকা পেয়েছিলেন তারা ১৫০০ টাকা পাবেন এবং যে সমস্ত মা-বোনেরা ১৭০০ টাকা করে লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পেয়েছিলেন সেই সমস্ত মা-বোনেরা ১৭০০ টাকা করে পাবেন যতদিন না পর্যন্ত অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা প্রদান করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত তারা লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার এই নতুন ঘোষণায়।

কারা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের আবেদন করতে পারবেন:

এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী বসবাসকারী মহিলা যে সমস্ত মহিলার বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সেই সমস্ত মহিলা এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে যে সমস্ত মহিলা আয়কর প্রদান করেন বা তার পরিবার আয়কর প্রদান করে থাকেন সেই সমস্ত মহিলারা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা হয়তো পাবেন না কারণ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করা হয়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মা-বোনেদের আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য কোন উচ্চবিত্ত পরিবারের মহিলাদের জন্য না।

তবে যে সমস্ত মহিলার স্বামী সরকারি চাকরি করেন সেই সমস্ত মহিলা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে সকল মহিলাই আবেদন করতে পারবেন অবশ্যই যারা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলা এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে ফর্ম প্রত্যেকেই ফিলাপ করতে পারবেন তবে যে সমস্ত ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে সেই সমস্ত ডকুমেন্টস গুলো দিন যেগুলো সত্য কোন মিথ্যা ডকুমেন্ট দিবেন না কারণ মিথ্যা ডকুমেন্টস দেয়ার ফলে ভেরিফিকেশন এর সময় আপনার ফর্মটি বাতিল করে দেয়া হবে এবং সরকারি তরফ থেকে মিথ্যা ডকুমেন্টস দেয়ার কারণে সমস্ত ভাতা প্রকল্প থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন।

কোন কোন ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন জেনে নিন:

অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য যে সমস্ত ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন সেই সমস্ত ডকুমেন্ট সম্বন্ধে নিচে আলোচনা করা হলো।

১. আধার কার্ড:

আবেদনকারীর পরিচয়ের প্রথম এবং প্রধান হলো এই আধার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যা ছাড়া অন্য যে কোন প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করা সম্ভব না।

২. ভোটার কার্ড:

আবেদনকারী যে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা তার প্রমাণ হলো এই ভোটার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র।

৩. ব্যাংক একাউন্ট:

আবেদনকারীর অবশ্যই একটি নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে যাতে ওই অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের তিন হাজার টাকা প্রতি মাসে আসতে পারে এবং ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক থাকতে হবে।

৪. জাতিগত শংসাপত্র:

আবেদনকারীর জাতিগত শংসাপত্র এর প্রয়োজন ।আবেদনকারী যদি তফসিলি বা তফসিলি উপজাতি মানুষ হয়ে থাকলে জাতিগত শংসাপত্র এর প্রয়োজন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য।

৫. ইনকাম সার্টিফিকেট:

আবেদনকারীর পারিবারিক আয় অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

৬. বাসস্থান:

আবেদনকারীকে অবশ্যই এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং মহিলা হতে হবে। আবেদনকারী পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা না হলে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত তিনি হবেন না।

৭. রেশন কার্ড:

আবেদনকারী এবং তার পরিবারের রেশন কার্ডের প্রয়োজন

৮. ফোন নাম্বার :

আবেদনকারী অবশ্যই সেই ফোন নাম্বারটি দেবেন যার সাথে আপনার আধার নাম্বার লিঙ্ক করা আছে এবং ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ আছে যাতে আপনি ফোনে কোন মেসেজ কিংবা নোটিফিকেশান এলে তৎক্ষণাৎ আপনি দেখতে পান এবং আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকেছে কিনা প্রতি মাসে সেই মেসেজটি আপনি দেখতে পান।

৯. ক্রেডিট কার্ড:

আবেদনকারী যদি কৃষাণ ক্রেডিট কার্ড বা শিল্পি ক্রেডিট কার্ড বা মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড বা শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি ক্রেডিট কার্ড থাকে তাহলে সেই সমস্ত ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য।

১০. জমির দলিল:

আবেদনকারীর যদি জমি থাকে তাহলে সেই জমির দলিলের প্রয়োজন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য।

১১. প্যান কার্ড:

এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের প্যান কার্ডের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য যে প্যান কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক সেরকম না, অন্য পণ্য ভান্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য প্যান কার্ড আছে কিনা থাকলে সেই প্যান কার্ডের সমস্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।

ওপরে উল্লেখিত কার্ড গুলোর কথা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের জানতে চাওয়া হয়েছে আবেদনকারীর এবং আবেদনকারীর পরিবারের সকল সদস্যের।

কোন কোন ডকুমেন্টস জেরক্স এর প্রয়োজন জেনে নিন:

১. আধার কার্ড।

২. ভোটার কার্ড।

৩. রেশন কার্ড।

৪. ব্যাংকের পাস বুকের প্রথম পাতা জেরক্স।

৫. প্যান কার্ড।

৬. ক্রেডিট কার্ড।

৭. জমির দলিল।

ওপরে উল্লেখিত কার্ড গুলির জেরক্সের প্রয়োজন অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য যে সমস্ত কাজগুলোর কথা বলা হয়েছে ওই কার্ড গুলি কেবলমাত্র আবেদনকারী না আবেদনকারীর পরিবারের সকল সদস্যের প্রয়োজন।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে কি জমির দলিলের প্রয়োজন পড়ছে?

হ্যাঁ ।অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের যিনি আবেদন করছেন যদি আবেদনকারীর নামে জমির মালিকানা থাকে কিংবা আবেদনকারীর পরিবারের কোন সদস্যের নামে জমি জমির মালিকানা থাকে তাহলে সেই জমির দলিলের প্রয়োজন পড়ছে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য।

অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে কি টাকা দেয়া চালু হয়ে গেছে?

হ্যাঁ ।৩রা জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা প্রদান করা হয়েছে যে সমস্ত মহিলার প্রথম দিকে আবেদন করেছিলেন তাদের এবং একলা জুন থেকে ৯০ দিন ধরে এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ও ধাপে ধাপে টাকা প্রদান করাও চলবে।

অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে কত বছর বয়সী মহিলারা আবেদন করতে পারবেন?

অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বসবাসকারী মহিলা আবেদন করতে পারবেন।

অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে কত টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে?

অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বসবাসকারী মা-বোনেদের।

যে সমস্ত মহিলার স্বামী সরকারি চাকরি করেন সেই সমস্ত মহিলা কি অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন?

হ্যাঁ, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বসবাসকারী ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যে কোন মহিলা আবেদন করতে পারবেন। যে সমস্ত ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে সেই সমস্ত ডকুমেন্ট সত্য দেবেন কারণ ভেরিফিকেশনে মিথ্যা প্রমাণিত হলে সেই ব্যক্তি সমস্ত সরকারি ভাতা প্রকল্প থেকে বাদ দেয়া হবে।

শেষ কথা:

এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবেন। কারা আবেদন করতে পারবে না কিভাবে আপনারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করবেন ।কোন কোন ডকুমেন্টস অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য চাওয়া হয়েছে ।কোন কোন ডকুমেন্টস জেরক্স এর প্রয়োজন ।এছাড়াও সরকারি কর্মচারী ব্যক্তির স্ত্রী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কিনা ।এছাড়া অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প সম্পর্কে যে কোন প্রকার তথ্য জানার জন্য এবং বিজেপি সরকারের যে কোন প্রকার ভাতা প্রকল্প সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার জন্য এই ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখুন।

ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *