অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য কোন কোন নথিপত্রের প্রয়োজন জেনে নিন।।
আপনাদের সকলকে এই ওয়েবসাইটটিতে স্বাগত জানাই একলা জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করা শুরু হয়ে গেছে এবং ৯০ দিন ধরে এই ফর্ম ফিলাপ চলবে। এবং ৩রা জানুয়ারি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা যে সমস্ত মহিলারা প্রথমদিকে আবেদন করেছিলেন তাদেরকে প্রদান করা হয়েছে।
সরকারি তরফ থেকে এক বড় ঘোষণা উপভোক্তাদের উদ্দেশ্যে ।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে বুধবার থেকে অর্থাৎ ৩রা জুন থেকে মিলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা তবে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই এক এক করে সবাই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন । দেখাও গেছে মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী ৩রা জুন অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের টাকা প্রদান করা হয়েছে যে সমস্ত মহিলারা প্রথমদিকে আবেদন করেছিলেন ।এই প্রকল্প ১লা জুন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত চলবে। সরকার চান যোগ্য প্রাপক অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পান ।সেই জন্যেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে যাতে লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের মতো এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে কোন পুরুষ টাকা না পায় এবং কোন অভারতীয় এই প্রকল্পের সুবিধা না পায়। যাতে যোগ্য প্রাপক এই প্রকল্পের সুবিধা পায় সেই কারণেই তেরো পাতার একটি ফর্ম ফিলাপের মাধ্যমে সমস্ত তথ্য নিয়ে সমস্ত সেই সব তথ্য যাচাই করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা প্রদান করা হবে। ৯০ দিন পর্যন্ত আপনাদের সময় দেয়া হয়েছে আপনারা ভালোভাবে এই প্রকল্পের জন্য অনলাইন বা অফলাইন যে কোন পদ্ধতিতে আবেদন শুরু করুন। এবং যদি কোন ব্যক্তি কোন কারণবশত বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনলাইন বা অফলাইন যে কোন পদ্ধতিতে গিয়ে ফর্ম ফিলাপ করতে না পারেন তাহলে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই সরকারি প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি শুধু এটাই বলেনি তিনি আরো বলেছেন যে যতদিন না পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা দেয়া হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আগে যেইভাবে লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন সেই অনুযায়ী টাকা পাবেন ।যে সমস্ত মা-বোনেরা লক্ষী ভান্ডারে ১৫০০টাকা পেয়েছিলেন তারা ১৫০০ টাকা পাবেন এবং যে সমস্ত মা-বোনেরা ১৭০০ টাকা করে লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পেয়েছিলেন সেই সমস্ত মা-বোনেরা ১৭০০ টাকা করে পাবেন যতদিন না পর্যন্ত অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা প্রদান করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত তারা লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার এই নতুন ঘোষণায়।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা ডকুমেন্ট:
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে যে নথিপত্রের প্রয়োজন হবে সেই সমস্ত নথিপত্র বা ডকুমেন্ট এর কথা নিচে আলোচনা করা হলো।
১. আধার কার্ড:
আবেদনকারীর পরিচয়ের প্রথম এবং প্রধান হলো এই আধার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যা ছাড়া অন্য যে কোন প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করা সম্ভব না।
২. ভোটার কার্ড:
আবেদনকারী যে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা তার প্রমাণ হলো এই ভোটার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র।
৩. ব্যাংক একাউন্ট:
আবেদনকারীর অবশ্যই একটি নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে যাতে ওই অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের তিন হাজার টাকা প্রতি মাসে আসতে পারে এবং ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক থাকতে হবে।
৪. জাতিগত শংসাপত্র:
আবেদনকারীর জাতিগত শংসাপত্র এর প্রয়োজন ।আবেদনকারী যদি তফসিলি বা তফসিলি উপজাতি মানুষ হয়ে থাকলে জাতিগত শংসাপত্র এর প্রয়োজন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য। শুধু তফসিলি জাতি বা উপজাতির জন্য নয় সমস্ত মানুষেরই জাতিগত শংসাপত্র এর প্রয়োজন।
৫. ইনকাম সার্টিফিকেট:
আবেদনকারীর পারিবারিক আয় অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
৬. বাসস্থান:
আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং মহিলা হতে হবে। আবেদনকারী পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা না হলে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত তিনি হবেন না।
৭. রেশন কার্ড:
আবেদনকারী এবং তার পরিবারের রেশন কার্ডের প্রয়োজন
৮. ফোন নাম্বার :
আবেদনকারী অবশ্যই সেই ফোন নাম্বারটি দেবেন যার সাথে আপনার আধার নাম্বার লিঙ্ক করা আছে এবং ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ আছে যাতে আপনি ফোনে কোন মেসেজ কিংবা নোটিফিকেশান এলে তৎক্ষণাৎ আপনি দেখতে পান এবং আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকেছে কিনা প্রতি মাসে সেই মেসেজটি আপনি দেখতে পান।
৯. ক্রেডিট কার্ড:
আবেদনকারী যদি কৃষাণ ক্রেডিট কার্ড বা শিল্পি ক্রেডিট কার্ড বা মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড বা শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি ক্রেডিট কার্ড থাকে তাহলে সেই সমস্ত ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য।
১০. জমির দলিল:
আবেদনকারীর যদি জমি থাকে তাহলে সেই জমির দলিলের প্রয়োজন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য।
১১. প্যান কার্ড:
এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের প্যান কার্ডের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য যে প্যান কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক সেরকম না, অন্য পণ্য ভান্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য প্যান কার্ড আছে কিনা থাকলে সেই প্যান কার্ডের সমস্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
কোন কোন নথিপত্র জেরক্স এর প্রয়োজন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প আবেদনের জন্য জেনে নিন:
১. আঁধার কার্ড।
২. ভোটার কার্ড।
৩. রেশন কার্ড।
৪. ব্যাংকের বইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স।
৫. প্যান কার্ড।
৬. জমির দলিল।
৭. ক্রেডিট কার্ড।
এই সমস্ত কিছু কেবল আবেদন কারির নয় , আবেদনকারীর পরিবারের সকলের প্রয়োজন এই সমস্ত নথিপত্র অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে কোন কোন তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে জেনে নিন:
এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের আবেদনকারীর পরিবারের সকল সদস্যের সমস্ত তথ্য যেমন জন্মতারিখ ,নাম ,লিঙ্গ, পরিবারের কতজন সদস্য আছে ,তাদের মধ্যে কতজন সদস্য শিক্ষিত ,কতজন সদস্য অশিক্ষিত ,পরিবারের সমস্ত ভোটার কার্ডের নাম্বার। পরিবারে রেশন কার্ড আছে কিনা যদি রেশন কার্ড থাকে তাহলে সেই সমস্ত রেশন কার্ডের কি ধরন এবং রেশন কার্ড থেকে মাসিক রেশন তোলা হচ্ছে কিনা সেই সমস্ত জানতে চাওয়া হয়েছে। পরিবারের পাকা বাড়ি থাকলে কটা পাকা বাড়ি আছে সেটাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর নামে যদি জমি থাকে তাহলে সেই জমির দলিল যাওয়া হয়েছে এবং আবেদনকারীর বাড়িতে চার চাকা আছে কিনা সেই সমস্ত জানতে চাওয়া হয়েছে। যদি চার চাকা থাকে তাহলে চার চাকার ধরন জানতে চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারীরা আয়কর প্রদান করেন নাকি জানতে চাওয়া হয়েছে ।পরিবারের সদস্যের প্যান কার্ড আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে যে তারা সরকারি বা বেসরকারি কিংবা অন্য কোন ব্যবসায়ী মালিক বা কোন ধরনের কাজের সাথে যুক্ত কিংবা বেকার কিনা সেই সমস্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে ।পরিবারে কতজন শিশু আছে তাদের টিকাকরণ হয়েছে কিনা ।পরিবারের বার্ষিক আয় কত ,পরিবারের কোনো সদস্য মন্ত্রী পদে বা বিধায়ক পদে বা সংবিধানে কোন পদে যুক্ত আছে কিনা বা পঞ্চায়েতে কোন পদে যুক্ত আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়েছে বা পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি পেনশন পাচ্ছি কিনা জানতে চাওয়া হয়েছে । SIR এ কেউ বাদ পড়েছে কিনা জানতে যাওয়া হয়েছে, ক্রেডিট কার্ড আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়েছে থাকলে সেটা কোন ধরনের ক্রেডিট কার্ড এই সমস্ত তথ্য পরিবার এবং আবেদনকারীর জানতে চাওয়া হচ্ছে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য।
হ্যাঁ ।যদি আবেদনকারী বা আবেদনকারীর পরিবারের নামে জমি থাকে তাহলে সেই জমি দলিলের প্রয়োজন।
২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন।
না অন্য ফোনে ভান্ডার প্রকল্পে সরকারি কর্মচারী মহিলা আবেদন করতে পারবেন না।
প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
হ্যাঁ। ৩রা জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা প্রদান করা শুরু হয়ে গেছে।
শেষ কথা:
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য কোন কোন নথিপত্রের প্রয়োজন এবং কোন কোন নথিপত্র রে জেরক্সের প্রয়োজন। কিভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করবেন এছাড়া অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে কি কি জানতে চাওয়া হয়েছে। কত বছর বয়সী মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন । অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প সম্পর্কে যে কোন প্রকার তথ্য জানার জন্য এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের যেকোনো প্রকার আপডেট সম্পর্কে জানার জন্য এই ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখুন ।এছাড়াও বিজেপি সরকারের যে কোন প্রকার ভাতা প্রকল্প সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার জন্য এই ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখতে ভুলবেন না।
ধন্যবাদ