অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা অনলাইনে আবেদন করুন || অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প আবেদন পদ্ধতি
আপনারা সকলেই জানেন ৪ মে রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে এবং রাজ্য বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে যদি রাজ্য বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় আসে তাহলে বিভিন্ন ভাতা দেয়া হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা । এই অন্নপূর্ণা ভান্ডারে ৩০০০ টাকা অর্থাৎ লক্ষী ভান্ডারের দ্বিগুন টাকা প্রতিমাসে দেবেন বলে জানিয়েছেন বিজেপি সরকার।

কবে থেকে আপনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন
বিজেপি সরকারের বিভিন্ন প্রচার ও সংবাদপত্র মারফত জানা গিয়েছে যে বিজেপি সরকার গঠনের ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৬ সালের মে -জুন মাস থেকেই এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প চালু হতে পারে এমনটাই জানা যাচ্ছে।
মে মাস থেকে কি আমরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবো
এই মেয়ে মাসে বন্ধ হয়েছে লক্ষী ভান্ডারের টাকা তাহলে কি এই মে মাসে আপনারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন।
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায় চালু হতে চলেছে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এবং বন্ধ হয়েছে লক্ষী ভান্ডার জানানো হয়েছে লক্ষী ভান্ডারের দ্বিগুন টাকা দেয়া হবে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে যেহেতু এখনো পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর পদে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হয়নি শপথ পাঠ গ্রহণ করা হয়নি। সুতরাং সমস্ত পদে কর্মী নিয়োগ করার পর তাদেরকে নিজেদের কাজ বুঝিয়ে দেবার পর শুরু হবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের কাজ তাই আশা করা যাচ্ছে মে মাস হয়তো আপনারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে টাকা পাবেন না কারণ সমস্ত কাজ শেষ করতে এবং সমস্ত দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে কিছুটা পরিমাণ সময়ের প্রয়োজন তাই মে মাসের পর অর্থাৎ জুন মাস নাগাদ আপনারা এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে পারেন। বলে আশা করা যায়।
যদি বিজেপি সরকার আবার নতুন করে ফর্ম ফিলাপের মাধ্যমে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি কার্যকরী করতে চান তাহলে সময়ের প্রয়োজন মে মাসে তার সম্ভব হবে না আর যদি তিনি লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের আওতায় যে সমস্ত মহিলারা ছিলেন তাদের তালিকা থেকেই তাদেরকে টাকার পরিমান বাড়িয়ে দিয়ে তিনি ৩০০০ টাকা করে দিয়ে দেন তাহলে সময়টা কিছুটা হলেও কমবে এবং আপনারা জুন মাস নাগাদ অবশ্যই এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে টাকাটা পাবেন এমনটাই আশা করা যাচ্ছে।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প থেকে আপনি কত টাকা করে পাবেন
এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত বা অধীনস্ত যোগ্য মহিলারা তিন হাজার টাকা করে প্রতি মাসে পাবেন এমনটাই জানিয়েছেন বিজেপি সরকার। তবে তপশিলি জাতি বা উপজাতির মহিলারা কি কোন বেশি সুবিধা পাবেন কিনা অর্থাৎ লক্ষী ভান্ডার এর মতে তাদের কি আরও বেশি টাকা দেয়া হবে সেই সম্পর্কে কোন ধারণ সেই সম্পর্কে বিজেপি সরকার কোন মন্তব্য করেননি
আরো পড়ুন : সৌদি আরবে ১ ভরি স্বর্ণের মূল্য
আবেদনকারী কি মহিলা বা পুরুষ উভয়ই হতে পারে?
বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো গিয়েছে যে এটি মূলত মহিলাদের জন্যই তৈরি করা একটি প্রকল্প ।পুরুষরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না কেবলমাত্র মহিলারা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবেন এমনটাই জানিয়েছেন বিজেপি সরকার এখানে রাজ্যের প্রতিটি যোগ্য মহিলারা প্রত্যেক মাসে ৩০০০ টাকা করে পাবেন বলে জানানো হয়েছে তবে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে ।নাহলে তিনি আবেদন করতে পারবেন না।
তাহলে কি বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে পুরুষেরা কোন সুযোগ-সুবিধা পাবেন না
হ্যাঁ অবশ্যই পাবেন ,তবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার না ।পুরুষ হোক কিংবা মহিলা বিজেপি সরকার সমস্ত মানুষকেই বিভিন্ন সামাজিক ভাতার মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
মুসলিম ধর্মের মহিলারা কি এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে পারেন
হ্যাঁ। মুসলিম কিংবা হিন্দু বা অন্য যে কোন ধর্মের মহিলারা এই সুবিধা পেতে পারেন যদি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হন তাহলেই এই সুবিধা পেতে পারেন।
যেকোনো বয়সের মহিলারা কি এই প্রকল্পের আয়তাভুক্ত হতে পারেন ?
যদিও এখনো পর্যন্ত বিজেপি সরকার কোন নির্দিষ্ট বয়স সীমার উল্লেখ করেননি, তাই অনুমান করা হচ্ছে যে , যেহেতু এটি একটি লক্ষী ভান্ডারের ন্যায় প্রকল্প তাই লক্ষী ভান্ডার এর মতোই হয়তো ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে যে, যারা লক্ষী ভান্ডার পাচ্ছেন বা যারা কোন সরকারি ভাতা পাচ্ছেন না তারা এই প্রকল্পের আবেদন করতে পারেন ।
কোন সরকারি কর্মচারী এই প্রকল্পের আবেদন করতে পারেন কি?
সরকারি কর্মচারী ব্যক্তি এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারে কিনা সেই সম্পর্কে এখনো কোন মন্তব্য করেননি বিজেপি সরকার যেহেতু ওনারা একটা সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন সুতরাং নাও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে যদিও কোন সঠিক তথ্য এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি।
এই প্রকল্পের আবেদনের জন্য কোন কোন নথিপত্রের প্রয়োজন?
যেই হেতু এটি লক্ষ্মী ভান্ডারের প্রকল্পের মতোই একটি সামাজিক প্রকল্প তাই নিম্নলিখিত নথিপত্রের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানানো হচ্ছে:
১. আধার কার্ড: আবেদনকারীর পরিচয় এর প্রথম এবং প্রধান প্রমাণ হল এই আধার কার্ড যেটি একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। তাই আধার কার্ড অবশ্যই এই আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন।
২. ভোটার কার্ড: পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ হিসেবে ভোটার কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র।
৩. ব্যাংক একাউন্ট: আবেদনকারীর অবশ্যই একটি নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং সেই ব্যাংক একাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক থাকতে হবে।
৪. পাসপোর্ট সাইজ ফটো: আবেদনকারীর একটি পাসপোর্ট সাইজ ফটো প্রয়োজন।
৫. স্বাস্থ্য সাথী কার্ড: লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের ন্যায় এখানেও স্বাস্থ্য সাথী কাদের প্রয়োজন হতে পারে তবে সঠিক কোন তথ্য জানা যায়নি।
৬. পারিবারিক আয় অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
৭. আবেদনকারীকে অবশ্যই এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা এবং মহিলা হতে হবে।
৮. ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য মহিলারা আবেদন করতে পারবেন ।
৯. রেশন কার্ডের প্রয়োজন হতে পারে।
লক্ষী ভান্ডার এর যেরকম তফসিলি জাতি বা তফসিলি উপজাতির মহিলারা অতিরিক্ত সুবিধা পেতেন ঠিক তেমনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের এই অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন কিনা সেই সম্পর্কে বিজেপি সরকার কোন ঘোষণা এখন পর্যন্ত করেননি।
কোনকোন নথিপত্রের জেরক্স প্রয়োজন হতে পারে
১. আধার কার্ড দুই নম্ব
২. ভোটার কার্ড।
৩. ব্যাংকের প্রথম পাতা জেরক্স।
৪. ফোন নাম্বার অবশ্যই সেই ফোন নাম্বারটি যেটির সাথে ব্যাংক এবং আধার নাম্বারের লিংক আছে। তবেই কোন মেসেজ কিংবা নোটিফিকেশন দিলে আপনি তৎক্ষণাৎ জানতে পারবেন।
৫. রেশন কার্ড।
৬. মাসিক অথবা বাৎসরিক আয়ের প্রমাণপত্র( যদি লাগে)।
আপনি কোথায় আবেদন করতে পারবেন?
১.অনলাইন : আপনি অনলাইন প্রোর্টালের মাধ্যমে এই ফার্মটি ফিলাপ করতে পারেন।
২.অফলাইন: আপনি অফলাইনে এই ফর্মটি ফিলাপ করতে পারেন। যেকোনো সরকারি অফিসে বা এলাকাভৃত্তিক দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমেও আপনি এই ফর্মটি ফিলাপ করে জমা দিতে পারেন।
অনলাইন আবেদনের পদ্ধতি
প্রথমে আপনি অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য যে সরকারি পোর্টাল দেয়া হয়েছে সেই পোর্টালে যান এবং আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন তারপর ফর্মটা ফিলাপ করুন এবং যে সমস্ত নথি আপলোডের কথা বলা হয়েছে সেটা আপলোড করুন তারপর সাবমিট করুন। তাহলে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে ।
অফলাইন আবেদন পদ্ধতি
দুয়ারে সরকার ক্যাম্প ,পৌরসভা অফিস বা ব্লক অফিস থেকে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মটি সংগ্রহ করুন ফর্মটি ফিলাপ করুন এবং যে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জেরক্সের উল্লেখ থাকবে সেই সমস্ত জেরক্স গুলো অবশ্যই ফর্ম এর সাথে জমা করুন। তাহলে ই এই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের আবেদন সম্পূর্ণ হবে।
বর্তমানে ইন্টারনেটে বিভিন্ন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম দেখা গেলেও অফিসিয়ালি অর্থাৎ বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে কোন ফর্ম বা কোন সরকারি পোর্টাল এখনো পর্যন্ত চালু করা হয়নি।তাই কোন অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম ফিলাপ করার আগে অবশ্যই জেনে নেবেন সেটা সরকারি তরফ থেকে চালু করা হয়েছে কিনা নিজস্ব কোন তথ্য অনলাইনে আপলোড করার আগে অবশ্যই সেটা সরকারি কিনা জেনে তবেই আপলোড করবেন । তা না হলে যে কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
শেষ কথা
এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সম্পর্কে আরো তথ্য জানার জন্য বা ফর্মটি কবে ফিলাপ করা যাবে কিভাবে ফিলাপ করবেন সেই সমস্ত বিষয়ে আরো নিখুঁতভাবে জানার জন্য এবং সরকারি তরফ থেকে অর্থাৎ বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে কোন সরকারি পোর্টাল চালু করা হয়েছে কিনা সেই বিষয়ে জানার জন্য এই ওয়েবসাইটে নজর রাখুন।