পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যোজনা

২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন যোজনা

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যোজনা

২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন যোজনা

Uncategorized

আর 1500 নয় ❌ এবার 3000 টাকা! অন্নপূর্ণা যোজনা বড় আপডেট | কি কি ডকুমেন্ট লাগবে?

২০২৬ সালের ৪ মে রাজ্যে পালা বদল ঘটেছে আপনারা সকলেই জানেন রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে জানিয়েছিলেন যদি রাজ্য তাদের ক্ষমতায় আসে তাহলে তারা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ভাতার মাধ্যমে সাহায্য প্রদান করবেন তার মধ্যে এক অন্যতম এবং উল্লেখযোগ্য ভাতা হলো এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা যেখানে লক্ষী ভান্ডারের দ্বিগুণ টাকা অর্থাৎ তিন হাজার টাকা প্রতি মাসে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী মা বোনের দেয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছেন বিজেপি সরকার। ২০২১ সালে যখন রাজ্য ছিল তৃণমূল সরকারের ক্ষমতায় ছিল সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিলেন এই লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পটি এই লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পে তিনি প্রথমে ৫০০ টাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনেদের টাকা দেয়া শুরু করেছিলেন এবং তফসিলি জাতি বা উপজাতির মা-বোনেদের হাজার টাকা দিতেন প্রতি মাসে এবং পরবর্তীতে সেটি বেড়ে সাধারণ মা বোনেরা পেতেন ১০০০ টাকা প্রতি মাসে এবং তফসিলি জাতি বা উপজাতির মা বোনেরা পেতেন ১৫০০ টাকা প্রতি মাসে পরবর্তীতে তিনি আবারও এই লক্ষী ভান্ডারের টাকা বাড়িয়ে সাধারণ মা-বোনেদের দিতেন ১৫০০ টাকা প্রতি মাসে এবং তফসিলি জাতি বা উপজাতির মা-বোনেদের দিতেন ১৭০০ টাকা প্রতি মাসে এইবার ২০২৬ সালের বিজেপি সরকার জানিয়েছেন তিনি লক্ষী ভান্ডারের দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩০০০ টাকা করে দেবেন প্রতি মাসে পশ্চিমবঙ্গের মা বোনেদের ।

টাকার পরিমান দ্বিগুণ করা হলো

বিজেপি সরকার জানিয়েছিলেন যে তারা ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মী ভান্ডারের দ্বিগুণ টাকা দেয়া হবে এখনো পর্যন্ত পালা বদল হওয়ার পরেও তারা জানিয়েছেন যে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ করার পরেই তারা এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা কাজ শুরু করে দেবেন এবং পশ্চিমবঙ্গের মা বোনেদের টাকা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করে দেবেন প্রতি মাসে, যাতে পশ্চিমবঙ্গের মা বোনেরা সাবলম্বী হতে পারেন এই আশায়। তবে অনুমান করা হচ্ছে যে লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া হবে এবং চালু করা হবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা এবং তাতে পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনেরা আরো বেশি পরিমাণ আর্থিক সহায়তা পাবেন আশা করা যায় এটা তাদের আরো বেশি সহায়তা করবে।

আশা করা যাচ্ছে যে সরকার পদে সমস্ত কর্মী নিয়োগের 40 থেকে 45 দিনের মধ্যে অর্থাৎ মে-জুন মাস করেই এই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের কাজ শুরু হয়ে যাবে এবং প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা করে আপনারা পাবেন।

কারা পাবেন এই পনেরেশো টাকার পরিবর্তে তিন হাজার টাকা:

মূলত এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মা-বোনেদের জন্য কোন পুরুষেরা এই সাহায্য পাবেন না তাদের জন্য বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য অনেক ভাতার কথা উল্লেখ করেছেন বিজেপি সরকার তবে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি শুধুমাত্র হিন্দুদের জন্য নয়। মুসলিম বা অন্য যেকোনো ধর্মের মা বোনেরা যারা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা। তারাই এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।

তবে কোন সরকারি চাকরিজীবী মা-বোনেরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কিনা সেই সম্পর্কে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি। তবে অনুমান করা হচ্ছে যে যেহেতু তারা সরকারি তরফ থেকে একপ্রকার সুবিধা পাচ্ছেন সুতরাং তারা এই প্রকল্পের সুবিধা নাও পেতে পারেন তবে সঠিক কোন তথ্য এখনো পর্যন্ত সরকারি তরফ থেকে পাওয়া যায়নি।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র:

যেহেতু এটি লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের মতোই একটি সামাজিক প্রকল্প তাই নিম্নলিখিত গুলির প্রয়োজন হতে পারে

১. আধার কার্ড: আবেদনকারীর পরিচয়ের প্রথম এবং প্রধান প্রমাণ হল এই আধার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। তাই এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনায় এই আধার কার্ড অবশ্যই প্রয়োজন।

২. ভোটার কার্ড : আবেদনকারীর পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে পরিচয় এর প্রমাণ হল ভোটার কার্ড। তাই এই ভোটের কার্ড দেওয়া প্রয়োজন অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা প্রকল্পের জন্য।

৩. ব্যাংক একাউন্ট: আবেদনকারীর অবশ্যই একটি নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে যাতে প্রতিমাসে তিন হাজার করে টাকা ওই ব্যাংক একাউন্ট এ দেয়া হবে এবং ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিংক থাকতে ।

৪. পাসপোর্ট সাইজ ফটো: আবেদনকারীর দু কপি পাসপোর্ট সাইজ ফটোর প্রয়োজন ।

৫. স্বাস্থ্য সাথী কার্ড: যেহেতু এটি লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের ন্যায় একটি প্রকল্প তাই অনুমান করা হচ্ছে এখানেও স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এর কাজের প্রয়োজন হলেও হতে পারে।

৬. পারিবারিক আয় অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে হতে হবে।

৭. আবেদনকারী কে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং মহিলা হতে হবে।

৮. ২৫ বছরের উর্ধ্বে হতে হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে ।

৯. রেশন কার্ডেরও প্রয়োজন হতে পারে।

লক্ষী ভান্ডারে যেরকম তপশিলি জাতি বা উপজাতির মা-বোন এদের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করা হতো অর্থাৎ সাধারণ মা বোনের পনেরশো টাকা এবং তপশিলি জাতি বা উপজাতির মা-বোনেদের ১৭০০ টাকা দেয়া হতো প্রতি মাসে ঠিক তেমনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ক্ষেত্রেও তপশিলি জাতি বা উপজাতির মা-বোনদের টাকার পরিমান বেশি হবে কিনা বা তারা অন্য কোন সুবিধা পাবে কিনা সেই সম্পর্কে কোন তথ্য সরকারি তরফ থেকে দেয়া হয়নি।

কোন কোন নথিপত্রের জেরক্স প্রয়োজন হতে পারে:

১. আধার কার্ড।

২. ভোটার কার্ড।

৩. ফোন নাম্বার। অবশ্যই সেই ফোন নাম্বারটি দেবেন যেটি সাথে আধার এবং ব্যাংকের নাম্বারের লিংক করা আছে তাহলে যে কোন প্রকার মেসেজ বা নোটিফিকেশান এলে আপনারা সেটা দেখতে পান।

৪. ব্যাংকের বইয়ের প্রথম পাতার জেরক্স।

৫. রেশন কার্ড।

৬. মাসিক অথবা বাৎসরিক আয়ের প্রমাণপত্র( যদি লাগে)।

৭. শংসাপত্র যদি তপশিলি জাতি বা উপজাতির মা-বোনেরা কোন বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কথা বলা হয় সরকারি তরফ থেকে তাহলে এই সমস্যাটা প্রয়োজন হতে পার

আপনি কোথায় আবেদন করতে পারবেন

আপনি অনলাইন বা অফলাইন দুই ভাবেই এই অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্প এর আবেদন করতে পারেন।

১. অনলাইন: আপনি অনলাইনে সরকারি অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা পোর্টালে এর মাধ্যমে এই ফর্মটি ফিলাপ করতে পারেন।

২. অফলাইন: যেকোনো সরকারি অফিস বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমেও আপনি এই ফর্মটি তুলে ফিলাপ করে জমা দিতে পারেন।

অনলাইন আবেদন পদ্ধতি:

প্রথমে আপনি অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য যে সরকারি পোর্টাল টি দেয়া হয়েছে সেই পোর্টালে যান এবং আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন তারপর ফর্মটি ফিলাপ করুন এবং যে সমস্ত নথিপত্র আপলোড করার কথা বলা হয়েছে সেই সমস্ত নথিপত্র আপলোড করুন তারপর সাবমিট করুন তাহলেই অনলাইন এর মাধ্যমে অন্নপূর্ণা ভান্ডার যোজনা ফর্মটি ফিলাপ হয়ে যাবে এবং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।

অফলাইন আবেদন পদ্ধতি:

দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা পৌরসভা অফিস ব্লক অফিস থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের এই ফরমটি সংগ্রহ করুন তারপর ফার্মটি ফিলাপ করুন এবং যে সমস্ত নথি জেরক্সের কথা উল্লেখ থাকবে সেই সমস্ত নথিগুলো অবশ্যই ওই ফর্ম এর সাথে জমা করুন তাহলে এই অফলাইনে আবেদনের পদ্ধতি সম্পূর্ণ হইবে।

এখনো পর্যন্ত সরকারি তরফ থেকে কোন অন্নপূর্ণা ভান্ডার এর ফর্ম দেয়া হয়নি বা কোন অফিসিয়াল পোর্টাল চালু করা হয়নি। তাই ইন্টারনেটে যে সমস্ত ফর্ম দেখতে পাচ্ছেন সেই সমস্ত ফর্ম ফিলাপ করার আগে অবশ্যই জেনে নেবেন যে সরকার থেকে কোন ফর্ম দেয়া হয়েছে কিনা বা সরকার থেকে কোন অফিসিয়াল পোর্টাল চালু করা হয়েছে কিনা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তরফ থেকে ।তা নাহলে আপনি ইন্টারনেটে আপনার নিজস্ব কোন ডকুমেন্ট শেয়ার করলে যে কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন তাই যাচাই করে তবেই আপনার নিজস্ব তথ্য অনলাইনে আপলোড করবেন।

শেষ কথা:

এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এবং সরকারি তরফ থেকে অর্থাৎ বিজেপি সরকারের তরফ থেকে কবে এই ফর্ম দেয়া হবে এবং কবে অনলাইনে সরকারি পোর্টাল চালু করা হবে সেই সম্পর্কে জানতে এবং কোন কোন নথিপত্রের প্রয়োজন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ফর্মটি ফিলাপ করার জন্য সেই সম্পর্কিত যে কোন তথ্য জানার জন্য বা এই লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পটি বন্ধ হচ্ছে কিনা বা লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পটি ও চালু থাকবে কিনা সেই সম্পর্কিত যেকোনো প্রকার তথ্য এবং আরো যেকোনো প্রকার ভাতা সম্পর্কে নিখুঁতভাবে জানার জন্য আপনারা এই ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *