বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা ! কারা পাবেন এবং কারা পাবেন না ?আবেদন ও যোগ্যতা সম্পূর্ণ তথ্য।
আপনাদের সকলকে এই ওয়েবসাইটটিতে স্বাগত জানাই ।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বড় ঘোষণা যে বুধবার থেকে মিলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা যারা প্রথমদিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন তাদের কিছু মহিলাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা প্রদান করা হবে বুধবারে এবং ৯০ দিন ধরেই প্রকল্প চলতে থাকবে সুতরাং তাড়াতাড়ি কোন দরকার নেই ভালোভাবে দেখে ফর্ম ফিলাপ করুন সবাই এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন যদি আপনারা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের জন্য যোগ্য হয়ে থাকেন। সমস্ত তথ্য যাচাই করে তবেই এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা প্রদান করা হবে কারণ লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পে অনেক পুরুষ এবং অনেক অভারতীয় মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছে যাতে এই প্রকল্পে এরকম কোন ভুল না হয় সেই কারণেই লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পে যারা আবেদন করেছেন তাদের প্রত্যেকেই এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য বলা হয়েছে। সরকার চান যোগ্য প্রাপক অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পান। তাই দুশ্চিন্তার ও কোনো কারণ নেই এবং গুজবে কান দেয়ারও দরকার নেই সমস্ত যোগ্য মহিলা এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন।

তিনি শুধু এটাই বলেনি তিনি আরো বলেছেন যে যতদিন না পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা দেয়া হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আগে যেইভাবে লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন সেই অনুযায়ী টাকা পাবেন ।যে সমস্ত মা-বোনেরা লক্ষী ভান্ডারে ১৫০০টাকা পেয়েছিলেন তারা ১৫০০ টাকা পাবেন এবং যে সমস্ত মা-বোনেরা ১৭০০ টাকা করে লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পেয়েছিলেন সেই সমস্ত মা-বোনেরা ১৭০০ টাকা করে পাবেন যতদিন না পর্যন্ত অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা প্রদান করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত তারা লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তার এই নতুন ঘোষণায়।
কারা পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা:
এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে সারা দেশজুড়ে এক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম মা-বোনেদের মনে প্রশ্ন তারা কি পাবে এই প্রকল্পের সুবিধা ।বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শুধু হিন্দু না মুসলিম ধর্মের মা বোনেরা নয় অন্য যেকোনো ধর্মের যোগ্য মা বোনেরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন অবশ্যই তারা যদি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে থাকে তবেই । তানাহলে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত তারা হবে না ।
কারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না:
১.SIR এ বাদ পরা :
যে সমস্ত মহিলাদের নাম SIR এর সময় ভোটের তালিকা থেকে বাদ গেছে সেই সমস্ত মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে।
২.বিদেশি নাগরিক:
যে সমস্ত মহিলারা ভারতীয় নাগরিক না সেই সমস্ত মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।
৩.ভুয়ো সুবিধাভোগী:
যে সমস্ত মৃত মহিলা বা যাদের ভোটের তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পরে ভুলবশত লক্ষী ভান্ডারে প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন সেই সমস্ত মহিলারা এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন না বলে সুস্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।
৪.সরকারি চাকুরীজীবী :
কোন সরকারি চাকরিজীবী বা সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে ।
৫. আয় কর প্রদান:
যে সমস্ত মহিলা বা তার পরিবার আয়কর প্রদান করে থাকেন সেই সমস্ত মহিলা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না
এছাড়াও লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পে দেখা গেছে যে লাখ লাখ পুরুষ লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন যাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে এরকম কোন গরমিল না হয় সেই কারণেই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের একটি বারো পাতার ফর্ম বেরিয়েছে সেই ফর্মে আবেদনকারীর এবং তার পরিবারের সমস্ত তথ্য জানতে যাওয়া হয়েছে এবং সেই সমস্ত তথ্য যাচাই করে নেয়া হচ্ছে কঠোরভাবে যাতে যোগ্য প্রাপক অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পান কোনো পুরুষ কিংবা অভারতীয় মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা না পায়।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা ডকুমেন্ট:
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে যে নথিপত্রের প্রয়োজন হবে সেই সমস্ত নথিপত্র বা ডকুমেন্ট এর কথা নিচে আলোচনা করা হলো।
১. আধার কার্ড:
আবেদনকারীর পরিচয়ের প্রথম এবং প্রধান হলো এই আধার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যা ছাড়া অন্য যে কোন প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করা সম্ভব না।
২. ভোটার কার্ড:
আবেদনকারী যে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা তার প্রমাণ হলো এই ভোটার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র।
৩. ব্যাংক একাউন্ট:
আবেদনকারীর অবশ্যই একটি নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে যাতে ওই অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের তিন হাজার টাকা প্রতি মাসে আসতে পারে এবং ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক থাকতে হবে।
৪. জাতিগত শংসাপত্র:
আবেদনকারীর জাতিগত শংসাপত্র এর প্রয়োজন ।আবেদনকারী যদি তফসিলি বা তফসিলি উপজাতি মানুষ হয়ে থাকলে জাতিগত শংসাপত্র এর প্রয়োজন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য।
৫. ইনকাম সার্টিফিকেট:
আবেদনকারীর পারিবারিক আয় অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
৬. বাসস্থান:
আবেদনকারীকে অবশ্যই এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং মহিলা হতে হবে। আবেদনকারী পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা না হলে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত তিনি হবেন না।
৭. রেশন কার্ড:
আবেদনকারী এবং তার পরিবারের রেশন কার্ডের প্রয়োজন
৮. ফোন নাম্বার :
আবেদনকারী অবশ্যই সেই ফোন নাম্বারটি দেবেন যার সাথে আপনার আধার নাম্বার লিঙ্ক করা আছে এবং ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ আছে যাতে আপনি ফোনে কোন মেসেজ কিংবা নোটিফিকেশান এলে তৎক্ষণাৎ আপনি দেখতে পান এবং আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকেছে কিনা প্রতি মাসে সেই মেসেজটি আপনি দেখতে পান।
৯. ক্রেডিট কার্ড:
আবেদনকারী যদি কৃষাণ ক্রেডিট কার্ড বা শিল্পি ক্রেডিট কার্ড বা মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড বা শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি ক্রেডিট কার্ড থাকে তাহলে সেই সমস্ত ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য।
১০. জমির দলিল:
আবেদনকারীর যদি জমি থাকে তাহলে সেই জমির দলিলের প্রয়োজন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য।
১১. প্যান কার্ড:
এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের প্যান কার্ডের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য যে প্যান কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক সেরকম না, অন্য পণ্য ভান্ডার প্রকল্পের আবেদনের জন্য প্যান কার্ড আছে কিনা থাকলে সেই প্যান কার্ডের সমস্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
কোন কোন নথিপত্র জেরক্সের প্রয়োজন হবে:
১. আধার কার্ড।
২. ভোটার কার্ড।
৩. রেশন কার্ড।
৪. ব্যাংক একাউন্টের প্রথম পাতা জেরক্স।
৫. প্যান কার্ড।
এই সমস্ত কার্ড এর জেরক্স কেবলমাত্র আবেদনকারী নয় আবেদনকারীর পরিবারের সকলেরই এই সমস্ত কার্ডের জেরক্স এবং কার্ড প্রয়োজন অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য।
আপনি এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের ফর্মটি অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারেন এবং আপনি যদি শারীরিকভাবে অক্ষম হন কিংবা অসুস্থতার কারণে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্মটি আবেদন করতে যেতে না পারেন তাহলে সরকারি প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি এসে এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করতে সম্পন্ন সহযোগিতা করবে।
বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের টাকা দেয়া শুরু করে দেবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন এবং ৯০ দিন ধরেই প্রক্রিয়াটি চলবে এবং ধাপে ধাপে টাকা দেয়াও চলবে।
যে সময় তো মানুষ অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের ফরম ফিলাপ করতে যেতে পারবেন না তাদের জন্য সরকারি প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি এসে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফরম ফিলাপ করতে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
না তারা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে সরকারি তরফ থেকে।
না কোন সরকারি কর্মচারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
না সেই সমস্ত মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
শেষ কথা:
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা কোন কোন মহিলা পাবেন কোন কোন মহিলা পাবেন না ।কিভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন করবেন অনলাইন না অফলাইন ।কোথায় আবেদন করবেন। কোনখান থেকে এই ফর্ম আপনারা পাবেন। কোন কোন নথিপত্রের প্রয়োজন অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের আবেদন করার জন্য এছাড়াও অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প সম্পর্কে যে কোন প্রকার তথ্য জানতে এই ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখতে ভুলবেন না এবং বিজেপি সরকারের যে কোন প্রকার ভাতা প্রকল্প সম্পর্কে জানতে এই ওয়েবসাইটে নজর রাখুন।
ধন্যবাদ