নতুন করে চালু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন। ১লা জুন থেকেই শুরু হয়ে যাবে ফর্ম ফিলাপ। লাগবে এই ডকুমেন্ট গুলি ।
আপনাদের সকলকেই এই ওয়েবসাইটটি তে স্বাগত জানাই। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই জানিয়েছিলেন যে তারা ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করবেন ।যেখানে মা-বোন এদের তিন হাজার টাকা করে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে ।এখন সেই প্রকল্পই কার্যকর হতে চলেছে ১লা জুন থেকে। এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে গোটা দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এক আলোড়ন। সমস্ত জায়গাতেই একই কথা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে কি সত্যিই তিন হাজার টাকা করে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা করা হবে। করা পাবে এই প্রকল্পের সুবিধা সমস্ত মহিলারাই কি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। এই নিয়ে শুরু হয়েছে এক বিরাট আলোচনা শহর থেকে গ্রাম মহিলা মহল থেকে শুরু করে চায়ের দোকান সর্বোত্তই একই কথা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প।

সরকারি তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ১লা জুন থেকে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে যারা নতুন আবেদন করতে চান তারা আবেদন করতে পারবেন ।সরকারি তরফ থেকে ফর্ম ফিলাপ করা শুরু হয়ে যাবে এবং আপনারা যদি অনলাইন আবেদন করতে চান তাহলে সরকারি পোর্টালে গিয়ে আপনার আবেদন করতে পারেন ।আর যারা আগে লক্ষীর ভান্ডার পেতেন তাদের শুধু ডাইরেক্ট ব্যাংক ট্রান্সফারের (DBT)মাধ্যমে তাদের ব্যাংকে প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা দেয়া হবে।
কারা পাবেন অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের এই সুবিধা:
এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে সারা দেশজুড়ে এক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম মা-বোনেদের মনে প্রশ্ন তারা কি পাবে এই প্রকল্পের সুবিধা ।বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে শুধু হিন্দু না মুসলিম ধর্মের মা বোনেরাই নয় অন্য যেকোনো ধর্মের যোগ্য মা বোনেরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন অবশ্যই তারা যদি পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে থাকে তবেই । তানাহলে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত তারা হবে না ।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা ডকুমেন্ট:
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে যে নথিপত্রের প্রয়োজন হবে সেই সমস্ত নথিপত্র বা ডকুমেন্ট এর কথা নিচে আলোচনা করা হলো।
১. আধার কার্ড:
আবেদনকারীর পরিচয়ের প্রথম এবং প্রধান হলো এই আধার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যা ছাড়া অন্য যে কোন প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করা সম্ভব না।
২. ভোটার কার্ড:
আবেদনকারী যে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা তার প্রমাণ হলো এই ভোটার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র।
৩. ব্যাংক একাউন্ট:
আবেদনকারীর অবশ্যই একটি নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে যাতে ওই অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের তিন হাজার টাকা প্রতি মাসে আসতে পারে এবং ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক থাকতে হবে।
৪. পাসপোর্ট সাইজ ফটো :
আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজ ফটোর প্রয়োজন।
৫. ইনকাম সার্টিফিকেট:
আবেদনকারীর পারিবারিক আয় অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
৬. বাসস্থান:
আবেদনকারীকে অবশ্যই এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং মহিলা হতে হবে। আবেদনকারী পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা না হলে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত তিনি হবেন না।
৭. রেশন কার্ড:
আবেদনকারীর রেশন কার্ডের প্রয়োজন।
২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী মহিলা বাসিন্দা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প থেকে আর্থিক সহায়তা পাবেন বলে জানানো হচ্ছে।
৮. ফোন নাম্বার :
আবেদনকারী অবশ্যই সেই ফোন নাম্বারটি দেবেন যার সাথে আপনার আধার নাম্বার লিঙ্ক করা আছে এবং ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ আছে যাতে আপনি ফোনে কোন মেসেজ কিংবা নোটিফিকেশান এলে তৎক্ষণাৎ আপনি দেখতে পান এবং আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকেছে কিনা প্রতি মাসে সেই মেসেজটি আপনি দেখতে পান।
কোন কোন নথিপত্রের জেরক্স প্রয়োজন হতে পারে:
১. আধার কার্ড।
২. ভোটার কার্ড।
৩. আবেদনকারীর ব্যাংক একাউন্টের প্রথম পাতা জেরক্স।
৪. রেশন কার্ড।
৫. আবেদনকারীর মাসিক বা বাৎসরিক আয়ের প্রমাণপত্র।( যদি লাগে)।
আবেদন পদ্ধতি:
আপনি এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি অনলাইন বা অফলাইন দুটি ভাবেই আবেদন করতে পারেন ।তাই এই অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে কিভাবে আবেদন করবেন সেই সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. অনলাইন আবেদন পদ্ধতি:
প্রথমে আপনি এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটির ফর্ম ফিলাপ করার জন্য যে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প এর তরফ থেকে সরকারি পোর্টাল দেয়া হয়েছে সেই পোর্টালে যান এবং পোর্টালে গিয়ে আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে সেটি রেজিস্ট্রেশন করুন তারপর ফর্মটি ভালোভাবে ফিলাপ করুন এবং যে সমস্ত নথিপত্র বা ডকুমেন্ট আপলোডের কথা বলা হয়েছে সেই সমস্ত ডকুমেন্টগুলো আপলোড করুন এই সমস্ত কিছু হয়ে গেলে তারপর আপনি সাবমিট করুন তাহলেই আপনার অনলাইন আবেদন পদ্ধতি সম্পূর্ণ হবে।
২. অফলাইন আবেদন পদ্ধতি:
আপনি অনলাইনের মাধ্যমে না করেও অফলাইনের মাধ্যমে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন যার জন্য আপনাকে যে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বসে বা পৌরসভা অফিস বা ব্লক অফিস থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্মটি সংগ্রহ করতে হবে।তারপর আপনি ফার্মটি ভালোভাবেফিলাপ করুন এবং ওই ফর্ম এর জন্য যে সমস্ত নথিপত্রের জেরক্স প্রয়োজন বলা হয়েছে সেই সমস্ত জেরক্স গুলো অবশ্যই ফর্ম এর সাথে জমা করুন তাহলেই আপনার এই অফলাইন আবেদন পদ্ধতিটি সম্পন্ন হইবে।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এই অন্নপূর্ণার ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে এক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে দেখাও গিয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ফর্ম । যদিও সরকারি তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন ফর্ম বা অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়নি। যার দ্বারা আপনারা এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্মটি ফিলাপ করতে পারেন তাই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের কোন ফর্ম ফিলাপ করার আগে এবং কোন নথিপত্র আপলোড করার আগে আপনারা অবশ্যই জেনে নেবেন যে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম ফিলাপ চালু হয়েছে কিনা । কারণ এখনো পর্যন্ত সরকারি তরফ থেকে কোন সরকারি পোর্টাল বা কোন ফর্ম বিলি করা হয়নি। অনলাইনে আপনার নথি আপলোড করার ফলে আপনি যে কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন । জানানো হয়েছে ১লা জুন থেকে এই প্রকল্প চালু হয়ে যাবে এবং সরকারি তরফ থেকে সমস্ত ফর্ম ফিলাপ এবং সরকারি পোর্টাল চালু করা হবে তখন যে সমস্ত নতুন আবেদনকারী আছেন তারা আবেদন করে নেবেন।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে কত টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে:
এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। যাতে মা-বোনেরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে । যাতে তারা এই তিন হাজার টাকা থেকে যদি কিছু কাজের ব্যবস্থা করতে পারে সেই আশায়।
এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের নতুন আবেদনকারীরা একলা জোন থেকে আবেদন করতে পারবেন বলে সরকারি তরফ থেকে জানানো হয়েছে।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
অন্য কোন ভান্ডার প্রকল্পের সুবিধা পঁচিশ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
হিন্দু ,মুসলিম বা অন্য যেকোনো ধর্মের মা-বোনেরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন অবশ্যই যদি তারা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হয় তবেই।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে আগে যারা লক্ষ্মী ভান্ডার পেতেন তারা কেবলমাত্র ডাইরেক্ট ব্যাংক ট্রান্সফারের (DBT)মাধ্যমে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
শেষ কথা:
এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবেন কিভাবে আবেদন করবেন কোন কোন ধর্মের মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন নাকি সমস্ত ধর্মের মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কত বছর বয়সী মহিলারাই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কি কি ডকুমেন্ট লাগবে কিভাবে আবেদন করবেন কোথায় আবেদন করবেন কিভাবে ডাইরেক্ট ব্যাংক ট্রান্সফার (DBT)পদ্ধতিটি সম্পন্ন করবেন। এই সমস্ত বিষয়ে জানার জন্য এছাড়াও অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প সম্পর্কে যে কোন প্রকার তথ্য জানার জন্য এবং বিজেপি সরকারের যে কোন প্রকার ভাতা প্রকল্প সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার জন্য এই ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখতে ভুলবেন না।
ধন্যবাদ