প্রধানমন্ত্রীর ফসল বীমা যোজনা প্রকল্প কি সুবিধা পাবেন কি কি ডকুমেন্টস লাগবে
ভারত সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে কৃষকদের ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে আর্থিক সহায়তা করা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন – খরা ,বন্যা, ঝড় ,শিলাবৃষ্টি ,অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এই সমস্ত কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কৃষকেরা তাদের কষ্টের ফসল বাড়ি নিয়ে যেতে পারে না সমস্ত ফসল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে নষ্ট হয়ে যায় ।তার ফলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই প্রধানমন্ত্রীর এই ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পটি এক অন্যতম প্রকল্প যার মাধ্যমে কিছুটা হলেও আর্থিক সহায়তা হয় কৃষক এবং কৃষকের পরিবারের। যেই হেতু ভারত একটি কৃষি নির্ভরশীল দেশ সেই কারণে কৃষি ক্ষতি হলে ভারত এর মানুষ আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা খুব উপকৃত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পের অন্যতম সুবিধা:
প্রধানমন্ত্রীর ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, খরা, ঝড় বৃষ্টি ,কীটপতঙ্গ বা রোগের কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।সেই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই এই প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা করা হয় যাতে তারা স্থিতিশীল হতে পারে এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদ করতে অভ্যস্ত হয় । এই প্রকল্পের সুবিধা গুলি সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. প্রিমিয়ামের হার :
এই প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পের অন্যতম সুবিধা হল এই প্রকল্পে কৃষকদের অত্যন্ত কম হারে প্রিমিয়াম দিতে হয় এবং বাকি প্রিমিয়ামের বোঝা রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার ভর্তুকি হিসেবে বহন করে থাকে যার ফলে কৃষকেরা উপকৃত হয়।
১. খরিফ ফসল:
খরিফ ফসল চাষ কারি কৃষকদের মোট প্রিমিয়ামের ২% দিতে হয় ।বাকি প্রিমিয়ামের বোঝা রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার ভর্তুকি হিসেবে বহন করে।
২. রবি ফসল:
রবি ফসল চাষ কারি কৃষকদের মোট প্রিমিয়ামের ১.৫% দিতে হয়। বাকি প্রিমিয়ামের বোঝা রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার ভর্তুকি হিসাবে বহন করে থাকে।
৩. বাণিজ্যিক ফসল এবং উদ্যান পালন ফসল:
এই বাণিজ্যিক এবং উদ্যান পালন ফসল চাষ করি কৃষকদের মোট প্রিমিয়ামের ৫% দিতে হয় বাকি প্রিমিয়ামের বোঝা রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার ভর্তুকি হিসেবে বহন করে থাকে।।
২. প্রচন্ড ঝুঁকি:
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পটি শুধুমাত্র ফসল নষ্ট হওয়ার জন্যই যে সুবিধা প্রদান করে তা নয় বীজ বপন করা থেকে শুরু করে ফসল কাটার পরবর্তী পর্যায়ে পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান করে থাকে।
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ফসল ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে ।বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন -খরা ,বন্যা ,ভূমি ধস ,ভূমিকম্প, প্লাবন ,অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ,শিলাবৃষ্টি, অসময়ে বৃষ্টি হয়ে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।
২. স্থানীয় দুর্যোগ:
স্থানীয় দুর্যোগ বা কোন নির্দিষ্ট জায়গা জুড়ে ধস নাবলে ,ভূমিকম্প হলে বা অসময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে বা শিলা বৃষ্টি কারণে যদি সেই এলাকার ফসল নষ্ট হয়ে যায় সেই ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।
৩. কীটপতঙ্গ বা ফসলের রোগ:
কীটপতঙ্গের ফলে বা ফসলের নিজস্ব কোন রোগের ফলে যদি ফসল নষ্ট হয়ে যায় সেই ক্ষেত্রেও আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে সরকারি তরফ থেকে
৪. ফসল কাটার পরে ক্ষতি:
ফসল কাটার ১৪ দিন পর্যন্ত যদি মাঠে ফসল থাকে এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে যদি সেই সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে যায় তখনও সরকারি তরফ থেকে কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে এই প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে।
৫. আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রদান করা:
বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে কৃষকেরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে যাতে তারা পুনরায় আবার পরবর্তী ফসল চাষ করতে পারে সেই জন্য সরকারি তরফ থেকে তাদেরকে আর্থিক সহায়তা করা হয় এই প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে যাতে তারা চাষাবাদ বন্ধ না করে।
৬. ঋণ থেকে মুক্তি:
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে কৃষকেরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তারা ঋণের কবলে পড়ে যাতে তারা ঋণের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারে সেই জন্য সরকারি তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হয় এবং ঋণ থেকে তাদেরকে মুক্ত করা হয়, যাতে তারা পরবর্তী ফসলটি পুনরায় চাষ করতে পারে।
৭. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার:
১.প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ফসল নষ্টের পরিমাণ জানার জন্য স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ছবি বা ড্রোনের মাধ্যমে সেই এলাকার চাষের জমির ছবি দেখা হচ্ছে যে সেই এলাকায় কতটা পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এছাড়াও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
২. পর্যবেক্ষণ করার পর সরাসরি কৃষকদের ব্যাংকে টাকা দেয়া হচ্ছে ।যাতে কোন সুবিধাভোগী শ্রেণীর মানুষ সেই টাকার সুবিধা ভোগ না করতে পারে।
সমস্ত কৃষক এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে।
এই প্রকল্পের সুবিধা কেবলমাত্র চাষ জমির মালিক না যিনি ভাগ চাষ করছেন সেই সমস্ত কৃষকরা ও এই প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা পাবেন যাতে তারা পরবর্তী ফসল চাষ করতে পারে
এই প্রকল্পে টাকা কিভাবে দেয়া হবে:
প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্যাটেলাইটের বা ড্রোনের মাধ্যমে বা সেন্সিং প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে যে কতটা ক্ষতি হয়েছে সেই সমস্ত এলাকাতে তারপর সেই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে আর্থিক সহায়তা করা হবে সরকারি তরফ থেকে এবং সেই টাকা সরাসরি কৃষকের ব্যাংকে জমা করা হবে।
কত টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে:
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে যে ক্ষতি হবে সেই ক্ষতির টাকার পরিমান কোন নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নয়, কৃষকের কতটা পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়েছে এবং কতটা জমি জুড়ে সেই ফসল টা ছিল অর্থাৎ জমির পরিমাণটা এবং ফসল টা চাষাবাদ করতে কত টাকা খরচ হয়েছে সেই সমস্ত খরচ এবং জমির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে সরকারি তরফ থেকে টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে।
কৃষকদের মোট প্রিমিয়ামের ১.৫% থেকে ২% দিতে হয় বাকি প্রিমিয়ামের বোঝা কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার বহন করে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা নথিপত্র:
আবেদনকারীর আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা নথিপত্র সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হলো
১. আবেদনকারীর নিজস্ব আধার কার্ড (বাধ্যতামূলক)।
২. আবেদনকারীর পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে ভোটার আইডি ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্যান কার্ডের প্রয়োজন।
৩. আবেদনকারীর জমির দলিল কপি (খতিয়ান ও দাগ নম্বর সহ)।
৪. আবেদনকারী যে ব্যাংকে তার ক্ষতিপূরণের টাকা জমা করতে চায় সেই ব্যাংকের বইএর প্রথম পাতার জেরক্স।
৫. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজ ফটোর প্রয়োজন।
৬. যিনি আবেদন করবেন অর্থাৎ আবেদনকারী কি ফসলের চাষ করেছেন সেই ফসলের একটা ঘোষণাপত্রের প্রয়োজন। কারণ ফসল অনুযায়ী প্রিমিয়ামের বোঝা কম হবে।
আবেদন পদ্ধতি:
ফসল নষ্ট হলে আপনি কৃষি অফিস বা অফিশিয়াল মাধ্যমে যোগাযোগ আবেদন করতে পারেন।
আপনি আপনার নিকটস্থ কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন ব্লক অফিস যোগাযোগ করতে পারেন যেখানে শস্য বীমা কাজ করা হয়ে থাকে বা যে ব্যাংক থেকে আপনি কৃষাণ ক্রেডিট কার্ড বা শস্য ঋণ নিয়েছেন ।বা অনলাইনে আপনি আবেদন করতে পারেন অনলাইনের NCIP পোর্টালে গিয়ে আপনি আবেদন করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পে যে কোন ফসল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে নষ্ট হলে প্রিমিয়ামের হার কি সমান?
না প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে নষ্ট হলে প্রিমিয়ামের হার সমান না ফসল অনুযায়ী প্রিমিয়ামের হার বিভিন্ন।
খরিফ ফসল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে নষ্ট হলে প্রিমিয়ামের হার কত হবে এই প্রকল্প অনুযায়ী?
এই প্রকল্প অনুযায়ী মোট প্রিমিয়ামের ২% কৃষক দেবে বাকি প্রিমিয়ামের বোঝা সরকার বহন করবে।
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কি?
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ফসল নষ্ট হলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেই ক্ষতি হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
রবি ফসল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে নষ্ট হলে কত পারসেন্ট প্রিমিয়াম দিতে হবে কৃষককে এই প্রকল্প অনুযায়ী?
মোট প্রিমিয়ামের ১.৫% প্রিমিয়াম দিতে হবে কৃষককে বাকি প্রিমিয়ামের বছর রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকার বহন করবে
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পে কত টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়?
টাকার কোন নির্দিষ্ট অংক নেই জমির পরিমাণ এবং ফসলের উৎপাদন খরচের ওপর নির্ভর করে টাকা দেয়া হয় কৃষকদের।
বাণিজ্যিক ফসল বা উদ্যান ফসল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে নষ্ট হলে কৃষককে কত % প্রিমিয়াম দিতে হবে?
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা প্রকল্প অনুযায়ী কৃষককে মোট প্রিমিয়ামের ৫% দিতে হবে এবং বাকি প্রিমিয়ামের বোঝা সরকার বহন করবে।
শেষ কথা:
প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা প্রকল্পে কি কি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ফসলের ক্ষতি হলে কত পারসেন্ট প্রিমিয়াম দিতে হবে এবং সরকার কত পারসেন্ট প্রিমিয়ামের বোঝা গ্রহণ করবে সেই সমস্ত বিষয়ে জানার জন্য এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় ক্ষতি হলে কত টাকা আর্থিকভাবে সরকারি তরফ থেকে সহায়তা করা হবে সেই সমস্ত বিষয়ে জানার জন্য এবং আপনি কোথায় আবেদন করবেন কিভাবে আবেদন করবেন কোন কোন নথিপত্রের প্রয়োজন আবেদনের জন্য সেই সমস্ত বিষয়ে জানার জন্য এবং কেন্দ্র সরকারের আরো বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে নিখুঁতভাবে জানার জন্য এই ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখুন।
ধন্যবাদ