“অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের নতুন আপডেট দুই ধরনের মহিলাদেরকে কোন টাকা দেয়া হবে না” কারা পাবেন না। কিভাবে ফর্ম ফিলাপ করবেন? কি কি ডকুমেন্ট লাগবে?
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে কারা সুবিধা পাবেন না সেই নিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নারী ও শিশু কল্যাণমূলক মন্ত্রী অগ্নি মিত্রা পাল সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন যে, এই দুই শ্রেণীর মহিলারা কোন সুবিধা পাবেন না তারা হলো যে সমস্ত মহিলারা SIR বাদ পড়েছেন সেই সমস্ত মহিলারা এবং যারা সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন সেই সমস্ত মহিলারা এবং যারা সরকারি চাকরির সাথে যুক্ত সেই সমস্ত মহিলারা এবং সুবিধাভোগী মহিলারা এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন না বলে জানিয়েছেন। নিজে ভালোভাবে বর্ণনা করা হলো।

কারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না:
১.SIR এ বাদ পরা :
যে সমস্ত মহিলাদের নাম SIR এর সময় ভোটের তালিকা থেকে বাদ গেছে সেই সমস্ত মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে।
২.বিদেশি নাগরিক:
যে সমস্ত মহিলারা ভারতীয় নাগরিক না সেই সমস্ত মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।
৩.ভুয়ো সুবিধাভোগী:
যে সমস্ত মৃত মহিলা বা যাদের ভোটের তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পরে ভুলবশত লক্ষী ভান্ডারে প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন সেই সমস্ত মহিলারা এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন না বলে সুস্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।
৪.সরকারি চাকুরীজীবী :
কোন সরকারি চাকরিজীবী বা সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানানো হয়েছে ।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা ডকুমেন্ট:
যেহেতু এটি একটি সামাজিক প্রকল্প। লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্পের ন্যায় তাই অনুমান করা হচ্ছে যে লক্ষী ভান্ডার প্রকল্প যে নথিপত্রের প্রয়োজন হয়েছিল এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পেও সে রকমই নথিপত্রের প্রয়োজন হবে সেই সমস্ত নথিপত্র বা ডকুমেন্ট এর কথা নিচে আলোচনা করা হলো।
১. আধার কার্ড:
আবেদনকারীর পরিচয়ের প্রথম এবং প্রধান হলো এই আধার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যা ছাড়া অন্য যে কোন প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করা সম্ভব না।
২. ভোটার কার্ড:
আবেদনকারী যে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা তার প্রমাণ হলো এই ভোটর কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র।
৩. ব্যাংক একাউন্ট:
আবেদনকারীর অবশ্যই একটি নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে যাতে ওই অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের তিন হাজার টাকা প্রতি মাসে আসতে পারে এবং ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক থাকতে হবে।
৪. পাসপোর্ট সাইজ ফটো :
আবেদনকারী নিজস্ব পাসপোর্ট সাইজ ফটো প্রয়োজন
৫. ইনকাম সার্টিফিকেট:
আবেদনকারীর পারিবারিক আয় অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে।
৬. বাসস্থান:
আবেদনকারীকে অবশ্যই এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং মহিলা হতে হবে।
৭. রেশন কার্ড:
অনুমান করা হচ্ছে যে হয়তো রেশন কার্ডের প্রয়োজন হতে পারে।২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী মহিলা বাসিন্দা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প থেকে পাবে।
৮. জাতিগত শংসাপত্র:
লক্ষী ভান্ডার প্রকল্পে যেরকম তফসিলি জাতি বা উপজাতির মা-বোনেরা একটা অতিরিক্ত সুবিধা পেতেন মানে টাকার পরিমান কিছুটা বেশি পেতেন ঠিক তেমনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পেও কি ওই তফসিলি জাতি বা উপজাতির মা-বোনেরা বেশি টাকা পাবেন নাকি একই টাকা পাবেন তারা কি কোন সুবিধা পাবেন সেই সম্পর্কে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ঘোষণা করা হয়নি। যদি ঘোষণা করা হয় যে তারা একটা অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন তাহলে জাতিগত শংসাপত্র এর প্রয়োজন হবে।
৯. ফোন নাম্বার :
অবশ্যই সেই ফোন নাম্বারটি দেবেন। যার সাথে আপনার আধার নাম্বার লিঙ্ক করা আছে এবং ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ আছে যাতে আপনি ফোনে কোন মেসেজ কিংবা নোটিফিকেশান এলে তৎক্ষণাৎ আপনি দেখতে পান এবং আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকেছে কিনা প্রতি মাসে সেই মেসেজটি আপনি দেখতে পান কোন কোন নথিপত্র জেরক্স এর প্রয়োজন হতে পারে।
কোন কোন নথিপত্রের জেরক্স প্রয়োজন হতে পারে:
১. আধার কার্ড।
২. ভোটার কার্ড।
৩. ব্যাংক একাউন্টের প্রথম পাতার জেরক্স।
৪. রেশন কার্ড।
৫. আবেদনকারীর মাসিক বা বাৎসরিক আয়ের প্রমাণপত্র।( যদি লাগে)।
আবেদন পদ্ধতি:
আপনি এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি অনলাইন বা অফলাইন দুটি ভাবেই আবেদন করতে পারেন তাই এই দুটি ভাবে আবেদন করার পদ্ধতি নীচে বর্ণনা করা হলো।
১. অনলাইন আবেদন পদ্ধতি:
প্রথমে আপনি এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটির ফর্ম ফিলাপ করার জন্য যে যে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প এর তরফ থেকে সরকারি পোর্টাল দেয়া হয়েছে সেই পোর্টালে যান এবং পোর্টালে গিয়ে আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে সেটি রেজিস্ট্রেশন করুন তারপর ফর্মটি ফিলাপ করুন এবং যে সমস্ত নথিপত্র বা ডকুমেন্ট আপলোডের কথা বলা হয়েছে সেই সমস্ত ডকুমেন্টগুলো আপলোড করুন এই সমস্ত কিছু হয়ে গেলে তারপর আপনি সাবমিট করুন তাহলেই আপনার অনলাইন আবেদন পদ্ধতি সম্পূর্ণ হবে।
২. অফলাইন আবেদন পদ্ধতি:
আপনি অনলাইনের মাধ্যমে না করেও অফলাইনের মাধ্যমে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন যার জন্য আপনাকে যে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বসে বা পৌরসভা অফিস বা ব্লক অফিস থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্মটি সংগ্রহ করতে হবে।তারপর আপনি ফার্মটি ফিলাপ করুন এবং ওই ফর্ম এর জন্য যে সমস্ত নথিপত্রের জেরক্স প্রয়োজন বলা হয়েছে সেই সমস্ত জেরক্স গুলো অবশ্যই ফর্ম এর সাথে জমা করুন তাহলেই আপনার এই অফলাইন আবেদন পদ্ধতিটি সম্পন্ন হইবে।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এই অন্নপূর্ণার ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে এক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে দেখা গিয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ফর্ম । যদিও সরকারি তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত কোন ফর্ম বা অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়নি। যার দ্বারা আপনারা এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্মটি ফিলাপ করতে পারেন তাই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের কোন ফর্ম ফিলাপ করার আগে এবং কোন নথিপত্র আপলোড করার আগে আপনারা অবশ্যই জেনে নেবেন যে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম ফিলাপ চালু হয়েছে কিনা । কারণ এখনো পর্যন্ত সরকারি তরফ থেকে কোন সরকারি পোর্টাল বা কোন ফর্ম বিলি করা হয়নি। অনলাইনে আপনার নথি আপলোড করার ফলে আপনি যে কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
কবে থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন?
জুন মাস থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নারী কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নি মিত্রা পাল জানিয়েছেন।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে এর সুবিধা কি সরকারি চাকরিজীবী মহিলারা পাবেন?
না। সরকারি কর্মচারী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে কত টাকা দেয়া হবে?
প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দেয়া হবে যোগ্য মহিলাদের
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবেন না?
SIR বাদ পড়া মহিলারা এবং যারা মৃত অথচ ভুলবশত এখনো তারা টাকাটা পাচ্ছিলেন এবং যারা ভারতের বাসিন্দা নয় সেই সমস্ত মহিলারা।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে কি যে কোনো ধর্মের মহিলারা এই সুবিধা পাবেন?
হ্যাঁ তারা ভারতের , পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পে মুসলিম মা বোনেরা সুবিধা পাবেন?
হ্যাঁ যেকোনো ধর্মের মা বোনেরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন
শেষ কথা:
এই বিজেপি সরকারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প সম্পর্কে আরো নিখুঁতভাবে জানার জন্য এবং কবে থেকে ফর্ম ফিলাপ শুরু হবে কিভাবে আপনি ফর্ম ফিলাপ করবেন কোথায় আপনি ফর্ম ফিলাপ করবেন কারা এই প্রকল্পের আয়তাভুক্ত হবে বা কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বা কোন বয়স থেকে আপনি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বা অন্য কোনো প্রকল্পের সুবিধা পেলে আপনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কিনা বা অন্য কোন ধর্মের মহিলা হলে প্রকল্পের সুবিধা পাবেন কিনা সেই সমস্ত বিষয় নিখুঁতভাবে জানার জন্য আপনারাই ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখুন এখানে আপনাদেরকে সমস্ত বিষয়ে নিখুঁতভাবে জানানো হবে এবং কোন ভাতার জন্য কোন শেষ কথা: প্রয়োজন কোন বয়সসীমার প্রয়োজন কিভাবে করবেন এবং সেই ভাতা সম্পর্কে বিশদে জানার জন্য নজর রাখুন।
ধন্যবাদ