পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যোজনা

২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন যোজনা

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যোজনা

২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন যোজনা

Uncategorized

পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য এক বড় খবর ।এবার পশ্চিমবঙ্গের মানুষ পেতে চলেছে “আয়ুষ্মান ভারত যোজনা ” প্রকল্পের সুবিধা।

এটি হল বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প। এই প্রকল্পে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষ যাদের চিকিৎসা করার মত প্রয়োজনীয় টাকা নেই সেই সমস্ত মানুষদের বছরে 5 লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্য চিকিৎসা প্রদান করা করার সুবিধা দেয়া হবে। দেশ জুড়ে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে এই সুবিধা পাওয়া যাবে।

ভারতে জুড়ে এই প্রকল্প ২০২৬ সালের আগে প্রচলন থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের প্রচলন ছিল না কারণ ২০২৬ সালের আগে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল সরকারের তারা এই প্রকল্পকে কার্যকর ভাবে গ্রহণ করেনি এবং তার বদলে তারা স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প চালু করেছিল যেহেতু এখন ২০২৬ সালের রাজ্য ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকারের তাই তারা এই আয়ুষ্মান ভারত যোজনা প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গের কার্যকর করবে? বলে জানিয়েছে যাতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষরা এই প্রকল্পের সুবিধা পায় কোন মানুষ অসুস্থ হয়ে বাড়িতে না থাকে টাকার অভাবে যাতে সমস্ত মানুষ চিকিৎসা করতে পারে সেই জন্যই সরকারি তরফ থেকে এই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ কার্যকর হবার কথা বলা হয়েছে। এবং জানা যাচ্ছে যে খুব শীঘ্রই এই প্রকল্প সারা পশ্চিমবঙ্গে জুড়ে চালু হয়ে যাবে।

এই আয়ুষ্মান ভারত যোজনা প্রকল্পে আপনি কি কি সুবিধা পাবেন সেই সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

” আয়ুষ্মান ভারত যোজনা” প্রকল্পের সুবিধা:

এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে যে কোন সরকারি হসপিটাল বা তালিকাভুক্ত বেসরকারি হসপিটালে ও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে ।এই প্রকল্পের মাধ্যমে পেশেন্টের ওষুধ ,তার বিভিন্ন টেস্ট ,পেশেন্টের অপারেশন, তার ভর্তি ফ্রী সমস্ত কিছু কভার করা হবে এবং পরিবার ভিত্তিক ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বছরে দেয়া হবে ।আরো জানানো যাচ্ছে যে ৭০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকরা অনেক ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। তবে ৭০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকরাও এই প্রকল্পের আয়তাভুক্ত করা হবে বলে জানানো যাচ্ছে।

কারা এই প্রকল্পের আবেদন করতে পারবেন:

শুধু গ্রামাঞ্চল না শহরাঞ্চলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। গ্রামাঞ্চল এবং শহরাঞ্চলে কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে সেই সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

গ্রামাঞ্চলে কারো সুবিধা পাবেন:

যে সমস্ত মানুষ আজও মাঝে মাঝে বাড়িতে বসবাস করে সেই সমস্ত মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে

২. শ্রমিকেরা এবং শ্রমিকের পরিবারও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

৩. ভূমি হীন যে সমস্ত পরিবার আছে সে সমস্ত পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

৪. তফসিলি জাতি বা উপজাতি পরিবারের মানুষেরাই প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

৫. যে সমস্ত পরিবারে প্রতিবন্ধী মানুষ আছেন। সেই মানুষ এবং সেই সমস্ত পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

৬. দরিদ্রদের রেশন কার্ড যে সমস্ত পরিবারের আছে সেই সমস্ত পরিবারের প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

শহরাঞ্চলে কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে:

১. শহরাঞ্চলে গৃহকর্মী এবং সাফাই কর্মীরাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

২. শহরাঞ্চলে যে সমস্ত মানুষ রিকশা চালায় সেই সমস্ত মানুষ ও তার পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

৩. কম আয়ের পরিবার এ প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

৪. নির্মাণ শ্রমিক এবং ডেলিভারি বা ছোট কাজের শ্রমজীবী মানুষ এবং তার পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

এছাড়াও এখন ৭০ বছরের বেশি বয়সী মানুষদেরও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে।

কি কি ডকুমেন্টস লাগবে:

১. আধার কার্ড:

আবেদনকারীর পরিচয়ের প্রথম এবং প্রধান হলো এই আধার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যা ছাড়া অন্য যে কোন প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করা সম্ভব না।

২. ফোন নাম্বার:

অবশ্যই সেই ফোন নাম্বারটি দেবেন। যার সাথে আপনার আধার নাম্বার লিঙ্ক করা আছে এবং ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ আছে যাতে আপনি ফোনে কোন মেসেজ কিংবা নোটিফিকেশান এলে তৎক্ষণাৎ আপনি দেখতে পান।

৩. রেশন কার্ড:

এই রেশন কার্ড থেকে বোঝা যাবে যে পরিবার টি দরিদ্র কি ধনী। তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে নাকি, দরিদ্র পরিবার হলে অবশ্যই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন তাই রেশন কার্ডের প্রয়োজন কারণ রেশন কার্ড থেকেই জানা যাবে যে পরিবারটি দরিদ্র পরিবার নাকি ধনী পরিবার।

৪. পাসপোর্ট সাইজ ফটো:

আবেদনকারী নিজস্ব পাসপোর্ট সাইজ ফটো প্রয়োজন।

৫. পরিচয় পত্র :

পরিবারের পরিচয় পত্র প্রয়োজন।(যদি থাকে)

ফর্ম ফিলাপ কবে থেকে হবে:

এই প্রকল্পটির জন্য কোন নির্দিষ্ট সময় ধার্য করা হয়নি যে ওই সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করা হবে ।আপনি যেকোনো সময় প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন। যদি আপনি যোগ্য হয়ে থাকেন। ২০২৬ সালে অনলাইন বা অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে আপনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবার জন্য আবেদন করতে পারেন।

আবেদন পদ্ধতি:

অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে আপনি কিভাবে আবেদন করবেন সেই সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

অনলাইন আবেদন পদ্ধতি:

অনলাইনে এই প্রকল্প আবেদন করার জন্য প্রথমে আপনি সরকারি ওয়েবসাইটটিতে যান ।তারপর ফোন নাম্বার দিন, ফোন নাম্বার দেয়া হয়ে গেলে যে OTP নাম্বারটা আপনার ফোনে আসবে সেই OTP নাম্বার টা দিয়ে লগ ইন করুন এরপর আপনি নিজের স্টেট(state) টি নির্বাচন করুন ।আপনার রেশন কার্ড বা আধার কার্ড বা নাম দিয়ে আপনি eligibility চেক করুন। এরপরে যদি আপনার নাম আসে তাহলে e-KYC করুন। সমস্ত কাজগুলি হয়ে গেলে আয়ুষ্মান ভারত যোজনা কার্ডটি ডাউনলোড করুন।

এছাড়াও ফোনে আয়ুষ্মান App থেকে আপনি এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন।

কার্ড কিভাবে ডাউনলোড করবেন:

লগইন করে Download Ayushman Card অপশন থেকে পিডিএফ(PDF) কার্ড হিসেবে ডাউনলোড করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এই কার্ড তৈরি হয়ে যায়।

অফলাইন আবেদন পদ্ধতি:

অনলাইনের মাধ্যমে না করে আপনি অফলাইনে এই আয়ুষ্মান ভারত যোজনা প্রকল্পটিতে আবেদন করতে পারেন। অফলাইনে কিভাবে ফরমটি ফিলাপ করবেন সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

CSC(common service centre), জনসেবা কেন্দ্র বা সরকারি হাসপাতালে Ayushman Help Desk এর মাধ্যমে আপনি আবেদন করতে পারেন। প্রথমে আপনি ফর্মটা তুলে প্রয়োজনীয় যে সমস্ত নথিপত্রের কথা বলা হবে সেই সমস্ত গুলো এবং ফর্মটা ভালোভাবে ফিলাপ করে নেবেন সমস্ত কিছু ভালোভাবে ফিলাপ করা হয়ে গেলে তারপরে সেটিকে জমা করে দিন তাহলে অফলাইনে এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।

এভাবে আপনি অনলাইন বা অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে এই আয়ুষ্মান ভারত যোজনা প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন

“আয়ুষ্মান ভারত যোজনা” প্রকল্পে কত টাকা সুবিধা দেয়া হবে?

বছরে একটি পরিবারকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা করা হবে।

“আয়ুষ্মান ভারত যোজনা” প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবে?

দরিদ্র পরিবার প্রকল্পের সুবিধা পাবে এবং আরো ভালোভাবে জানার জন্য ওপরে লেখাগুলো পড়ুন ওখানে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা আছে আর এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে আর কারো পাবে না।

“আয়ুষ্মান ভারত যোজনা” প্রকল্পটি শুধুমাত্র কি সরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

না ।এটি শুধু সরকারি না বেসরকারি কিছু তালিকাভুক্ত হাসপাতালের ক্ষেত্রে ও প্রযোজ্য।

“আয়ুষ্মান ভারত যোজনা” প্রকল্পটি কি শুধুমাত্র গ্রামের মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

না ।শহরের মানুষদের ক্ষেত্রে ও প্রযোজ্য আসলে এই প্রকল্পটি দরিদ্র মানুষদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য গ্রাম বা শহর বিশেষে নয়।

শেষ কথা:

এই আয়ুষ্মান ভারত যোজনা প্রকল্প সম্পর্কে আরো জানার জন্য এবং কারাই প্রকল্পের সুবিধা পাবে কারাই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বা কত টাকা আর্থিক সহায়তা করা হবে বা কোন বয়সসীমা আছে নাকি বা ৭০ বছরের বেশি বয়সী মানুষদের এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে কিনা শহর নাকি গ্রাম নাকি সমস্ত মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে সেই সম্পর্কে আরো জানার জন্য এবং কিভাবে আপনি আবেদন করবেন আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানার জন্য এই ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখুন। এছাড়াও বিজেপি সরকারের যে কোন প্রকার ভাতা প্রকল্প সম্পর্কে জানার জন্য এই ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখুন।

ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *