১লা জুন থেকে শুরু হতে চলেছে যুবশক্তি প্রকল্প ।নতুন আপডেট কি কি লাগবে জেনে নিন।
আপনাদের সকলকেই এই ওয়েবসাইটটি তে স্বাগত জানাই। ইতিমধ্যে শহর এবং গ্রাম জুড়ে এই যুবশক্তি প্রকল্প নিয়ে এক আলোড়নে সৃষ্টি হয়েছে বেকার যুবক-যুবতীদের কাছে। কারণ চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত সরকার তাদেরকে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা করবে এটা তাদের কাছে এক বড় সহযোগিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে ১লা জুন থেকেই শুরু হতে চলেছে যুবশক্তি ভরসা কার্ড প্রকল্পের কাজ। ১লা জুন থেকেই বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন বলে জানানো হয়েছে সরকারি তরফ থেকে। যতদিন না পর্যন্ত তারা কোন চাকরি পাচ্ছি ততদিন পর্যন্ত তারা এই বেকার ভাতা অর্থাৎ যুব শক্তি প্রকল্পের টাকা পাবেন। জানানো হয়েছ যে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ।এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে যাতে তারা চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত নিজেদের পড়াশোনার কাজে এই অর্থ ব্যয় করতে পারে।

কারা যুব শক্তি প্রকল্পের আবেদন করতে পারবেন:
১. আবেদনকারী যুবক যুবতীদের বর্তমানে বেকার হতে হবে তবেই এই যুবশক্তি প্রকল্পের টাকা তারা পাবে বলে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।
২. আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে তবেই এই প্রকল্পের আয়তাভুক্ত তারা হতে পারবে ।
৩. আবেদনকারী যুবক-যুবতীদের অন্তত মাধ্যমিক পাস হতেই হবে তবেই এই যুবশক্তি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবে।
৪. আবেদনকারী যুবক যুবতীদের অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে ।পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা না হলে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত তারা হবে না বলে জানানো হয়েছে ।
৫. আবেদনকারী যুবক-যুবতীদের পরিবারের বার্ষিক আয় অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে। তবে তারা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।
৬. আবেদনকারী যুবক-যুবতী যে বেকার তার বেকার সংক্রান্ত ঘোষণা প্রয়োজন।( অবশ্যই যদি সেটা যুবশক্তি প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপের সময় চাওয়া হয়)।
কোন কোন নথিপত্র বা ডকুমেন্টস প্রয়োজন:
১. আধার কার্ড:
আবেদনকারীর পরিচয়ের প্রথম এবং প্রধান হলো এই আধার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যা ছাড়া যে কোন প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করা সম্ভব না।
২. ভোটার কার্ড:
আবেদনকারী যে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা তার প্রমাণ হলো এই ভোটার কার্ড যা একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র।
৩. মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড:
এই মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড যা আবেদনকারী যুবক যুবতীদের বয়সের প্রমাণ দেবে।
৪. শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশীট বা সার্টিফিকেট:
আবেদনকারী যুবক-যুবতীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণের জন্য মার্কশিট বা সার্টিফিকেট এর প্রয়োজন যা দেখে জানা যাবে যে আবেদনকারী যুবক-যুবতী শিক্ষিত।
৫. ব্যাংক একাউন্ট:
আবেদনকারীর অবশ্যই একটি নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে যাতে ওই অ্যাকাউন্টে যুবশক্তি প্রকল্পের তিন হাজার টাকা প্রতি মাসে আসতে পারে এবং ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক থাকতে হবে।
৬. পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ফটো:
আবেদনকারী যুবক বা যুবতীর পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবির প্রয়োজন।
৭. জাতিগত শংসাপত্র:
এই যুবশক্তি প্রকল্পে তফসিলি জাতি বা উপজাতি যুবক-যুবতীরা কোন অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার জন্য তাদের জাতিগত শংসাপত্র পাত্রের প্রয়োজন হতে পারে যদি জানানো হয় যে তাদেরকে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করা হবে।
৮. ফোন নাম্বার:
অবশ্যই সেই ফোন নাম্বারটি দেবেন। যার সাথে আপনার আধার নাম্বার লিঙ্ক করা আছে এবং ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ আছে যাতে আপনি ফোনে কোন মেসেজ কিংবা নোটিফিকেশান এলে তৎক্ষণাৎ আপনি দেখতে পান এবং আপনার ব্যাংকে টাকা ঢুকেছে কিনা প্রতি মাসে সেই মেসেজটি আপনি দেখতে পান কোন কোন নথিপত্র জেরক্স এর প্রয়োজন হতে পারে।
৯. আবেদনকারী স্বাক্ষর:
আবেদনকারী যুবক-যুবতীদের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে যদি আপনি অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করেন তাহলে আবেদনকারী তার নিজস্ব স্বাক্ষর স্ক্যান করে সাবমিট করবেন।
আবেদন পদ্ধতি:
যুবশক্তি প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ আপনি অনলাইন বা অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে করতে পারেন ।অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতি সম্পর্কে এবং কিভাবে আপনি আবেদন করবেন সেই সম্পর্কের নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. অনলাইন আবেদন পদ্ধতি:
প্রথমে আপনি এই যুবশক্তি প্রকল্পটির ফর্ম ফিলাপ করার জন্য যে যুব শক্তি প্রকল্প এর তরফ থেকে সরকারি পোর্টাল দেয়া হয়েছে সেই পোর্টালে যান এবং পোর্টালে গিয়ে আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে সেটি রেজিস্ট্রেশন করুন তারপর ফর্মটি ফিলাপ করুন এবং যে সমস্ত নথিপত্র বা ডকুমেন্ট আপলোডের কথা বলা হয়েছে সেই সমস্ত ডকুমেন্টগুলো আপলোড করুন এই সমস্ত কিছু হয়ে গেলে তারপর আপনি সাবমিট করুন সাবমিট করা হয়ে গেলে আপনি একটি অ্যাপ্লিকেশন নাম্বার পাবেন সেই নাম্বারটি সংরক্ষণ করে রাখুন কারণ নাম্বারটি ভবিষ্যতে প্রয়োজন হবে। এই সমস্ত প্রক্রিয়া গুলো সম্পন্ন হয়ে গেলে আপনার অনলাইন আবেদন পদ্ধতি সম্পূর্ণ হবে।
২. অফলাইন আবেদন পদ্ধতি:
আপনি অনলাইনের মাধ্যমে না করেও অফলাইনের মাধ্যমে এই যুব শক্তি প্রকল্পটি ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন যার জন্য আপনাকে যে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বসে বা পৌরসভা অফিস বা ব্লক অফিস থেকে যুবশক্তি প্রকল্পের ফর্মটি সংগ্রহ করতে হবে।তারপর আপনি ফার্মটি ফিলাপ করুন এবং ওই ফর্ম এর জন্য যে সমস্ত নথিপত্রের জেরক্স প্রয়োজন বলা হয়েছে সেই সমস্ত জেরক্স গুলো অবশ্যই ফর্ম এর সাথে জমা করুন তাহলেই আপনার এই অফলাইন আবেদন পদ্ধতিটি সম্পন্ন হইবে।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বিভিন্ন ভাতার ফর্ম দেখা যাচ্ছে কিন্তু সেই সমস্ত ফর্ম গুলি সরকারি তরফ থেকে নয় তাই কোন ফর্ম ফিলাপ করার আগে অবশ্যই জেনে নেবেন যে সেটি সরকারি তরফ থেকে দেয়া হয়েছে কিনা বা যদি আপনি অনলাইনে করেন তাহলে সেটি সরকারি পোর্টাল কিনা অবশ্যই জেনে নেবেন কারণ আপনার কোন ডকুমেন্টস অনলাইনে আপলোড করার ফলে যে কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন আপনি হতে পারেন তাই আপনি আগে জেনে তারপর এই যুবশক্তি প্রকল্পের বা অন্য যেকোনো সামাজিক প্রকল্পের যেগুলো সরকারি তরফ থেকে সাধারণ মানুষদের উদ্দেশ্যে দেয়া হচ্ছে সেই সমস্ত প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করবেন ।
কবে থেকে যুবশক্তি প্রকল্পের টাকা আপনি পাবেন:
বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছে যে ১লা জুন থেকেই থেকে যুবশক্তি প্রকল্পের টাকা পাওয়া যাবে বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন সরকারি তরফ থেকে। বিভিন্ন সংবাদপত্র মারফত জানা গিয়েছে যে আগে যে সমস্ত সরকারি প্রকল্প গুলো চালু ছিল কোনো প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে আগের সমস্ত প্রকল্প গুলো চালু থাকবে এবং DBT(Direct Benefit Transfer )পদ্ধতির মাধ্যমে আবেদনকারীর টাকা ব্যাংকে দেয়া হবে।
১লা জুন থেকেই এই যুবশক্তি প্রকল্প বা যুবশক্তি ভরসা কার্ড চালু হয়ে যাবে এবং বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের আবেদন করতে পারবেন অবশ্যই যদি তারা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হয় তবে
সরকারি তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন
যুবশক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি তরফ থেকে বেকার যুবক যুবতীদের জন্য প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
যুব শক্তি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য ২১ বছর থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা আবেদন করতে পারবে তবে যতদিন না পর্যন্ত তারা কোন চাকরি পাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত তারাই প্রকল্পের সুবিধা পাবে।
শেষ কথা:
যুবশক্তি বা যুবশক্তি ভরসা কার্ড প্রকল্প সম্পর্কে যে কোন প্রকার তথ্য জানার জন্য এবং কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে কত বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে এবং কতদিন পর্যন্ত তারাই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারে ।চাকরি পাওয়ার পর তারাই প্রকল্পের সুবিধা পাবে কি পাবে না সেই সম্পর্কে যে কোন প্রকার তথ্য জানার জন্য কত টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাবে এই যুবশক্তি প্রকল্পে আবেদন করার জন্য কি কি ডকুমেন্টস লাগবে কোথায় আবেদন করবেন কিভাবে আবেদন করবেন সেই সম্পর্কিত যে কোন প্রকার তথ্য জানার জন্য এবং বিজেপি সরকারের যে কোন প্রকার ভাতা প্রকল্প সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার জন্য এই ওয়েবসাইটটিতে নজর রাখুন।
ধন্যবাদ